হিজবুল্লাহ লেবাননের “আল-মানারা” বসতিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল

হিজবুল্লাহ লেবাননের “আল-মানারা” বসতিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লেবাননের রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছে, তারা ইসরায়েল দখলাধীন অঞ্চলের “আল-মানারা” বসতিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের হামলা অব্যাহত রাখবে।

তাসনিম সংবাদ সংস্থার আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ ভোরে চালানো এই হামলা লেবানন ও তার জনগণের প্রতিরক্ষার জন্য এবং শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ বাহিনী যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও শত্রুপক্ষ তা অমান্য করেছে। সেই কারণে ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী আল-মানারা বসতিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

হিজবুল্লাহ আরও জোর দিয়ে জানিয়েছে, তাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসন চলা পর্যন্ত তারা প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালিয়ে যাবে।

ইসরায়েলি পক্ষের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর দখলকৃত উত্তরের বিভিন্ন বসতিতে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৫ জানিয়েছে, “কিরিয়াত শিমোনা”, “আল-মানারা” এবং “মারগালিওত” বসতিতে সাইরেন শোনা গেছে। হিব্রু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অন্তত একটি হিজবুল্লাহ ক্ষেপণাস্ত্র আল-মানারা বসতিতে আঘাত হেনেছে।

চ্যানেল ১৫ আরও জানিয়েছে, প্রায় ৯ ঘণ্টা শান্ত থাকার পর পুনরায় হিজবুল্লাহর রকেট হামলা শুরু হয়েছে এবং উত্তরের পরিস্থিতি এখনও শান্ত হচ্ছে না।

এই হামলার ফলে উত্তরে বসতি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমান্ত সহিংসতা ঘনঘন ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা সীমান্তবর্তী বসতিতে নিরাপত্তা ও সাধারণ জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দুইপক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

হিজবুল্লাহর এই হামলা এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, সীমান্তবর্তী বসতিতে সাইরেন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরাসরি প্রভাবিত করছে।

সর্বশেষ এই ঘটনার মাধ্যমে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ