জাতীয় ডেস্ক
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ যুক্ত হবে। তিনি এই তথ্য জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে দিয়েছেন।
ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-কমলাপুর থেকে ফরিদপুর-রাজবাড়ী হয়ে মধুখালি, বোয়ালমারী পর্যন্ত এবং গোপালগঞ্জ পর্যন্ত রেলগাড়ি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা সরাসরি নির্ভর করছে নতুন কোচগুলোর সরবরাহের ওপর। তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে এই ২০০টি ব্রডগেজ কোচ সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে বাংলাদেশের রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে। নতুন ক্যারেজগুলো যোগ হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে রুট নির্ধারণ করে নতুন ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নেবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচল করছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে পদ্মা এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ঢাকা যাতায়াতের সুবিধা আন্তঃনগর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাটল-২ ট্রেনের মাধ্যমে রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলের রেল সংযোগে ইঞ্জিন, কোচ ও ক্রুর অভাবে ১৯টি মেইল/কমিউটার ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ট্রেন স্থগিত আছে। প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন পুশব্যাকের কারণে সেবার প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য নতুন ব্রডগেজ কোচ যোগ এবং রেলওয়ে রুট সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রডগেজ ক্যারেজগুলো যুক্ত হলে দেশের আন্তঃনগর রেল যোগাযোগে গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রী ও মালবাহী সেবার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি নতুন কোচ এবং রুট সম্প্রসারণ পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংযোগ উন্নয়নে সহায়ক হবে।
রেলওয়ের আধুনিকীকরণ এবং কোচ সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি রেল নেটওয়ার্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং মালবাহী পরিবহন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।


