জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে পুনর্বাসন অধ্যাদেশ সংসদে পাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে পুনর্বাসন অধ্যাদেশ সংসদে পাস

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

সংসদ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এ অধ্যাদেশ আনা হয়েছে। বিলটিতে সংশ্লিষ্টদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা, পুনর্বাসন সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিল উত্থাপনকালে মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের অবদান এবং আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আদর্শকে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, অধ্যাদেশটির মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সুবিধা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির সুযোগ তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনার ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।

বিলটি উত্থাপনের পর জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তা কণ্ঠভোটে দেন। উপস্থিত সংসদ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’সূচক কণ্ঠে বিলের পক্ষে মত দেন, ফলে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবার ও ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং তাদের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কাঠামো গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে এ ঘটনার দলিল সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা উপস্থাপনের পথ সুগম হবে।

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ