ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬ সংসদে পাস, একীভূত কাঠামোয় আসছে সাত কলেজ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬ সংসদে পাস, একীভূত কাঠামোয় আসছে সাত কলেজ

শিক্ষা ডেস্ক

জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজধানীর কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজকে একটি সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলের অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

অধিবেশনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করেন। এর আগে গত ১২ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। সংসদে উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে বিলটি পাস হওয়ায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

বিল অনুযায়ী, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ—এই সাতটি প্রতিষ্ঠান ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে এসব কলেজ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, অবকাঠামো ও সম্পদের ওপর স্বতন্ত্র অধিকার বজায় রাখবে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়। সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় বিলটি সংসদে উত্থাপন এবং পরবর্তীতে পাস হলো।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, সিনেট, সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট কর্তৃক মনোনীত প্যানেল থেকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেবেন। এই কাঠামোর মাধ্যমে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখিত সাত কলেজ দীর্ঘদিন ধরে পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পাঠদান পদ্ধতি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের সমন্বয় সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর মাধ্যমে এসব সমস্যা নিরসন এবং একক নীতিমালার আওতায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমন্বয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রাজধানীর সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ