রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন থানা এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক সংক্রান্ত অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—মো. আ. রশিদ (৫৮), অন্তর মোল্লা (১৯), রাসেদ (৪০), মো. ইলিয়াস (৩০), মো. কামাল (৪৫), মো. মিরাজ হোসেন (২৬), মোছা. সেলিনা (৩০), মো. রাজন (২৪), হোসেন ইমাম (৪০), মো. সিরাজুল ইসলাম (২৫), নাসির উদ্দিন রিয়াদ (২৫), মিরাজ (২১), মো. জসিম (৩০), মো. চাঁন (২৪), ওসমান আমিন জয় (৩২), অমিত আহমেদ (২৫), মো. সজীব (২৪), মো. সজীব ওরফে হৃদয় (২৬), মো. শামিম তালুকদার ওরফে ছগির (৫০), মো. তন্ময় হাসান (২০), মো. সাগর (২২), মো. শামীম, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে কোবরা আলমগীর, ফেকু আলম, মো. মাসুদ রানা ওরফে রনি (৩৫), মো. তামিম আহম্মেদ (১৯), মো. আশিক (১৯), মো. ফারুক (১৮), মো. জিসান (১৮), মো. সুজন শেখ (৩৫), মো. রায়হান (৪৫), মোহাম্মদ তানজিনুল ইসলাম (৩৫), মো. আরমান সরকার (২৭), মো. মনুসুর মিয়া (৩৭), মো. সামিদুর রহমান (৩০), মো. শাকিব (২০), মো. ইসমাইল (২০), মো. সামসুদ্দীন সবুজ (৪৩), মো. ইয়ার হোসেন ওরফে বেধুন (২৮), মো. শামীম (২১), মো. মিলন মন্ডল (৩৩), শাহ আলম (২৮), মো. চাঁন বাদশা (২৫), মো. মুন্না (২৩), মো. রিয়ান মিয়া (২৫), মো. আশিক (৩০), মো. ফারুক হোসেন রকি (৩০), চাঁন মিয়া (২৭), মো. রাসেল শিকদার (৩২), মো. সাইদার সরদার (৬২) ও মো. ইমরান (৩৫)।
ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চুরি এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা হ্রাস করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নগর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


