বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু, প্রার্থী বাছাইয়ে নির্যাতনের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু, প্রার্থী বাছাইয়ে নির্যাতনের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাইয়ে অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে পূর্ববর্তী শাসনামলে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতাকেও গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দলটি কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, নিপীড়ন ও রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিএনপি এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য বরাদ্দ থাকবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৩৬টি আসন বিএনপি ও জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে বণ্টিত হবে। এই জোটে গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন বণ্টনের এই কাঠামো ভবিষ্যৎ সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের অবস্থান ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় শেষে প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যা দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামো অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনগুলো মূলত জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো সংসদে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের ভূমিকা জোরদার করা। সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলেও দলীয় মনোনয়ন ও সংসদীয় আসন বণ্টনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।

বিএনপির এই মনোনয়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে আসন্ন সংসদীয় রাজনীতিতে দলটির কৌশলগত প্রস্তুতির একটি ধাপ সম্পন্ন হলো বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দলটি বলছে, তারা এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে চায় যারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী এবং সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ