ধামরাইয়ে এনসিপির কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

ধামরাইয়ে এনসিপির কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকেলে কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপির একটি নতুন কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির একাংশের নেতা-সমর্থকদের সঙ্গে ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, এতে কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার পেছনে দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে। ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে উপজেলা শাখার একটি অংশ তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, উপজেলার ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এনসিপির একটি কার্যালয় থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। নতুন করে আরেকটি কার্যালয় উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ বিষয়ে জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

এ বিষয়ে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ বলেন, নতুন কমিটি গঠনের ফলে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা অসন্তোষ থেকে এ ধরনের ঘটনার জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে তাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে ধামরাই উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ইসরাফিল ইসলাম খোকন বলেন, গত ১৬ মাস ধরে স্থানীয় কার্যালয় থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হঠাৎ নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের উদ্যোগ গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে নতুন কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট বিরোধ প্রায়ই মাঠপর্যায়ে উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

Uncategorized