বিনোদন ডেস্ক
চার বছর আগে ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসা নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন তাঁর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রইদ’ আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তির জন্য নির্ধারণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রযোজনা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলচ্চিত্রটির মুক্তিকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও প্রচারণা কার্যক্রম চলছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।
নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন জানান, ‘রইদ’ দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণ ও পোস্ট-প্রোডাকশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং মুক্তির জন্য উপযুক্ত সময় বিবেচনায় ঈদুল আজহাকে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে প্রস্তুত থাকলেও মুক্তির আগে পরিকল্পিতভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা জানান, মুক্তির আগে চলচ্চিত্রটির প্রচারণা কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে একটি গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। গানটি সহজিয়া ব্যান্ডের রাজু পরিবেশন করেছেন।
চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নির্মিত হয়েছে মানবিক সম্পর্ক ও জীবনের জটিল বাস্তবতা নিয়ে। এর গল্পে একজন সাধু এবং তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে ঘটনাপ্রবাহ এগিয়েছে। চলচ্চিত্রটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ আরও অনেকে।
২০২৫ সালের শেষ দিকে ‘রইদ’-এর ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর চলচ্চিত্রটি নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়। ট্রেলার প্রকাশের পর সেটি সমালোচক ও দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রদর্শনের সুযোগ পায়। নেদারল্যান্ডসের রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম আসরের টাইগার কম্পিটিশন বিভাগে চলচ্চিত্রটি নির্বাচিত হয়, যা উৎসবটির প্রতিযোগিতামূলক বিভাগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রক্রিয়া শুরুতে ভিন্ন কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোলেও পরবর্তীতে পরিবর্তন আসে। শুরুতে এতে অভিনেত্রী জয়া আহসানের সম্পৃক্ততা ছিল এবং তিনি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে চলচ্চিত্রটি সরকারি অনুদান হিসেবে ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। তবে নির্মাণ কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরবর্তীতে প্রাথমিক প্রযোজনা কাঠামোয় পরিবর্তন আসে এবং নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গ যুক্ত হয়।
নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে সম্পাদনা, সাউন্ড ডিজাইন এবং অন্যান্য পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে চলচ্চিত্রটিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়েছে। মুক্তির আগে দর্শক আগ্রহ তৈরি করতে পরিকল্পিত প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে গান প্রকাশ, পোস্টার উন্মোচন এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক উৎসবে নির্বাচিত হওয়া এবং ঈদকেন্দ্রিক মুক্তির সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্রটির বাণিজ্যিক ও প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে উৎসব প্রদর্শনী ও দেশীয় মুক্তির অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ‘রইদ’কে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র শিল্পে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


