রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার সকালে তারা এই পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টারা পদ্মা নদী থেকে সরমোংলা খালে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম, নেট মিটারিং সিস্টেমের মাধ্যমে সেচ পরিচালনা, এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিএমডিএ’র বিভিন্ন উদ্যোগ ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও বিএমডিএ কর্মকর্তারা তাদেরকে চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
বিএমডিএ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা প্রবণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আধুনিক সেচ প্রযুক্তি প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন টেকসই করার লক্ষ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পদ্মা নদীর পানি ব্যবহার করে খাল ও সেচ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন এবং কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে বিএমডিএ’র কার্যক্রম কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সোলারচালিত সেচ ব্যবস্থা, খাল থেকে পানি উত্তোলন করে চাষাবাদ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মতো উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগ কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কৃষি কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, আগামী পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি, কৃষি ঋণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা সরাসরি পেতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সেবা প্রদানে গতি আনার প্রত্যাশার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ কামরুজ্জামান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব সারওয়ার মোর্শেদসহ সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সেচ প্রকল্প, পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকট কৃষি উৎপাদনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থা কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


