নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল মিল তিন মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ, দরপত্র আহ্বান সম্পন্ন

নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল মিল তিন মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ, দরপত্র আহ্বান সম্পন্ন

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

নীলফামারীর বন্ধ থাকা দারোয়ানি টেক্সটাইল মিল আগামী তিন মাসের মধ্যে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মিলটি পুনরায় চালুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে মিলটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জুটমিল ও টেক্সটাইল মিলগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তার অংশ হিসেবেই নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি পাট খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। কৃষকরা যাতে পাটের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে পলিথিনের ব্যবহার কমে আসে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের বন্ধ থাকা মিলগুলো পুনরায় চালু হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে শিল্প উৎপাদন বাড়ার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের বাজার পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় কৃষকরা এখন বেশি দামে পাট বিক্রি করতে পারছেন। পাশাপাশি কাঁচা পাট রফতানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় পাটজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, গত বছরে পাটজাত দ্রব্য রফতানি থেকে ৮২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা খাতটির সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করছে।

তিনি আরও বলেন, পাট খাতকে টেকসই ও লাভজনক করতে উৎপাদন থেকে রফতানি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় আধুনিকীকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নীলফামারী-০২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের এই উদ্যোগকে শিল্প পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত বা বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হলে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হতে পারে এবং বেকারত্ব হ্রাসে তা ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ