আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার শুনানির সময় আসামি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়নি। তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীরা জামিনের আবেদন উপস্থাপন করে শুনানি করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের উপস্থিতিতে মামলার অগ্রগতি ও পূর্ববর্তী আদেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলো আদালতের সামনে উপস্থাপিত হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন প্রদানের সিদ্ধান্ত দেন।
মামলাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সংঘটিত সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই সময় সংঘটিত সংঘর্ষে হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আসামি করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে হাজির করার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্তকারী সংস্থা তার রিমান্ডের আবেদন করে। একই সময় আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন জানায়। ওই শুনানিতে আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাকে বিচারিক হেফাজতে রাখা হয়।
সর্বশেষ জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, মামলার ঘটনার সঙ্গে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখন পর্যন্ত উপস্থাপিত হয়নি। তারা আরও দাবি করেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং এ পর্যায়ে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না।
অন্যদিকে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলার নথি ও বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে জামিন সংক্রান্ত আদেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন।
এ মামলাটি কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সংঘটিত সংঘর্ষ ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ফৌজদারি মামলায় জামিনের সিদ্ধান্ত সাধারণত অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের অগ্রগতি, আসামির সামাজিক অবস্থান এবং প্রমাণের প্রাথমিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়। তবে এ ধরনের আদেশ পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত শুনানির মাধ্যমে।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


