জাতীয় ডেস্ক
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন হামের টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য করতে ব্যাপক প্রচারণা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার সকালে রাজধানীর নগর ভবনে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। দেশের শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে চলমান এ বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম ধাপে ধাপে সারা দেশে বিস্তৃত করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ওই পর্যায়ে বিশেষভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকা অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিশুদের টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে আজ ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নির্ধারিত বয়সের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের দুইটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হাম রোগ শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রুবেলা রোগও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার আলোকে বিভিন্ন দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে থাকে।
বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। তবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নগরাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টিকা গ্রহণে অনীহা ও তথ্য ঘাটতির কারণে কিছু শিশু এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত প্রচারণা কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, চলমান ক্যাম্পেইনে সঠিক টিকা সংরক্ষণ (কোল্ড চেইন) ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ব্যাপকভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে হাম ও রুবেলা রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তবে এর জন্য কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ, সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলে এর আওতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


