ক্রীড়া প্রতিবেদক
আসন্ন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এলিট প্যানেলের অভিজ্ঞ আম্পায়ার নিতিন মেনন মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। সূচি অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) চলমান থাকলেও তিনি সিরিজটির নির্ধারিত ম্যাচগুলোতে আম্পায়ারিংয়ের জন্য বাংলাদেশে আসবেন।
আগামী ১৭ এপ্রিল ঢাকায় সিরিজের প্রথম ম্যাচে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিতিন মেনন। একই সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২০ এপ্রিল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আবারও অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সিরিজ শেষে তিনি পুনরায় নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন।
আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ মানের আম্পায়ারিং নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেন। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিতিন মেনন দীর্ঘদিন ধরে এই প্যানেলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং আইসিসি টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বাংলাদেশে এটি তাঁর নতুন অভিজ্ঞতা নয়। এর আগে তিনি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত একাধিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আম্পায়ারিং করেছেন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টেস্ট সিরিজে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে মিরপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজেও তিনি মাঠে আম্পায়ার ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক উপস্থিতি ও অভিজ্ঞতা তাঁকে আইসিসি এলিট প্যানেলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আম্পায়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে নিতিন মেননের সঙ্গে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিতিন মেনন একটি ম্যাচে এবং অন্য ম্যাচগুলোতে দায়িত্বে থাকবেন নির্ধারিত আম্পায়াররা। ম্যাচ রেফারি হিসেবে সিরিজে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যান্ডি পাইক্রফট। মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় আম্পায়ারদের মধ্য থেকে মাসুদুর রহমান মুকুল, গাজী সোহেল এবং মোরশেদ আলী খান বিভিন্ন ম্যাচে সহকারী আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার নিয়োগ সাধারণত আইসিসির নির্ধারিত রোটেশন ও ম্যাচ অর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশের সিরিজে অংশ নেন, যাতে নিরপেক্ষতা ও উচ্চমানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতেও এই নীতি অনুসরণ করা হয়।
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজটি আইসিসি ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে উভয় দলই প্রস্তুতি ও র্যাঙ্কিং বিবেচনায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সিরিজের ভেন্যু হিসেবে ঢাকার মিরপুর ও চট্টগ্রামের মাঠ ব্যবহৃত হবে, যা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
আইপিএল চলাকালীন সময়েও আন্তর্জাতিক সিরিজে এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের অংশগ্রহণ ক্রিকেট সূচির সমন্বয়ের একটি নিয়মিত অংশ। নিতিন মেননের মতো অভিজ্ঞ আম্পায়ারদের উপস্থিতি মাঠের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা ও মান বজায় রাখতে সহায়ক হয় বলে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার এই সিরিজ ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মাঠ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ম্যাচ পরিচালনার বিভিন্ন দিক আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ায় সিরিজটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আয়োজনের পথে এগোচ্ছে।


