আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরব সরকার। ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ অনুমতি ছাড়া কোনো প্রবাসী বা বিদেশি নাগরিক পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রবেশ করতে পারবেন না। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম হজ মৌসুমে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও অননুমোদিত প্রবেশ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হবে “অনুমতি ছাড়া হজ নয়” নীতির ভিত্তিতে। এর মাধ্যমে শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত লোকজনই মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের মতে, অতীতে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত জনসমাগম, অবৈধ প্রবেশ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এবার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর কাছে মক্কা থেকে ইস্যুকৃত বৈধ ইকামা (আবাসিক অনুমতিপত্র), হজ পারমিট অথবা পবিত্র স্থানগুলোতে কর্মরত থাকার বৈধ অনুমতি রয়েছে, কেবল তারাই মক্কায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন। নির্ধারিত এসব অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রবেশপথের নিরাপত্তা চেকপোস্ট থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল (১ জিলকদ) এর মধ্যে তাদের সৌদি আরব ত্যাগ করতে হবে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ওমরাহ ভিসাধারীদের অবস্থান বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ১৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নুসুক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরাহ পারমিট ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্ত সৌদি নাগরিক, প্রবাসী এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর নাগরিকসহ সব শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। হজ মৌসুমের প্রস্তুতি ও পবিত্র স্থানগুলোতে চাপ কমানোর উদ্দেশ্যেই এই সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
একই সময়সীমা থেকে হজ ভিসা ব্যতীত অন্য কোনো ধরনের ভিসাধারী ব্যক্তিদের মক্কায় প্রবেশ বা সেখানে অবস্থান করাও নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে পর্যটন, ব্যবসা বা অন্যান্য ভিসায় আগতদের জন্য মক্কায় প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে সীমিত করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে “আবশির ইন্ডিভিজুয়ালস” প্ল্যাটফর্ম এবং “মুকিম” পোর্টালের মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে হজের অনুমতিপত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সব বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্ন ধর্মীয় কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


