ধর্ম ডেস্ক
২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে হজযাত্রী পরিবহনের বিমান টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে এবার কোনো চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন।
রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হজ ফ্লাইট পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া আরও ব্যয় সাশ্রয়ী ও সমন্বিত করার অংশ হিসেবে টিকিটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের ফলে হজযাত্রীদের মোট যাত্রা ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি আসবে।
হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ জানান, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে শুরু হবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানো হবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সভায় হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এ বছর মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বাকি কোটা পূরণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় চার্টার্ড ফ্লাইট না রাখার সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এ ব্যবস্থায় বিমান চলাচল সূচি আরও নিয়মিত ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে।
হজ ফ্লাইটের সময়সূচি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই হজযাত্রীদের যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।
হজ ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মুসল্লি পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। এ কারণে বিমান পরিবহন, নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সেবা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয়—সবকিছুই একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।
২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হ্রাস, ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন কাঠামো এবং সময়সূচি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই এবারের প্রধান অগ্রাধিকার।


