প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

রাজনৈতিক ডেস্ক

বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাশেদ খাঁনের নিয়োগের শর্তাবলি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই পদে যোগ দিতে হবে। তার এই নিয়োগের মেয়াদ হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে—এই দুটির মধ্যে যেটি আগে ঘটবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাশেদ খাঁন নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিমূর্তি, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। আমি যাতে যথাযথ নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া ও শুভকামনা প্রত্যাশা করছি।’ নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে রাশেদ খাঁনের অন্তর্ভুক্তি সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক তদারকিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাশেদ খাঁন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন এই পদে নিয়োগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তার নিয়োগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। সরকারের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমন্বয় ও কৌশল নির্ধারণে তার নতুন এই অবস্থান কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার পরবর্তী কার্যক্রম এবং নির্দিষ্ট দায়িত্বসমূহ আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টির ওপর তার এই পদের মেয়াদ নির্ভর করবে। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়োগের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ