অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন কৌশলগত দিক, অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, মুক্ত বাণিজ্য উৎসাহিতকরণ, বাংলাদেশে চিনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিবহন অবকাঠামো ও কৌশলগত করিডোর নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতের টেকসই সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ‘চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি’ (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ আ শেয়ার্ড ফিউচার) কাঠামোর আওতায় দ্বিপক্ষীয় সার্বিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দ্রুত, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা এই মানবিক সংকট নিরসনে চীনের কার্যকর এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখার তাগিদ দেয় বাংলাদেশ। চীন কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক সাপেক্ষে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করেছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে উভয় দেশ একমত প্রকাশ করে। বাংলাদেশে অবকাঠামোগত অবকাঠামো তৈরি, আঞ্চলিক পরিবহন করিডোর স্থাপন, উৎপাদনমুখী শিল্পে চিনা বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা এবং বৈচিত্র্যময় জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যৌথ প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবধান হ্রাস করা এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেগবান করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতবিনিময় হয়।
এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বহুমুখী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুসংহত হলো বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মঞ্চে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে যৌথ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে বৈঠকটি সমাপ্ত হয়।


