অপরাধ ডেস্ক
ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে পরিচালিত নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীজুড়ে পরিচালিত এসব অভিযানের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মোট ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিতর্কিত সরঞ্জাম এবং জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সামগ্রী।
শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি প্রশাসনিক বিভাগসহ বিশেষায়িত দুটি ইউনিটের যৌথ ও পৃথক অভিযানে এসব গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ এলাকা থেকে, যেখানে মোট ১১৯ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৬৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৬ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৪ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৯ জন, রমনা বিভাগে ৩১ জন, লালবাগ বিভাগে ৩০ জন এবং গুলশান বিভাগ এলাকা থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত দল গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৬ জন এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২১৬ গ্রাম গাঁজা এবং ৫০ টাকার নোটে তৈরি ইয়াবা সেবনের বিশেষ সরঞ্জামসহ বোতলের কর্ক, ফুয়েল পেপার ও গ্যাস লাইট। মাদকদ্রব্য ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহজনক ও বিপজ্জনক কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাতার পোড়া কাপড় ও বাট, ব্যাটারির খণ্ডিত অংশ, বেয়ারিংয়ের বল এবং জিআই পাইপের টুকরো রয়েছে, যা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংগৃহীত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদক ও বিস্ফোরকজাতীয় সরঞ্জামের পাশাপাশি আর্থিক জালিয়াতি ও চুরির অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও নথি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৬টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট, বিভিন্ন ব্যাংকের ২১টি ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, ১০টি চেক বই এবং ৪৪৩টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড। জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এসব আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি ভুক্তভোগী এক ব্যক্তিকে পুলিশ সফলভাবে উদ্ধার করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন, মাদক কেনাবেচা বন্ধ এবং ছিনতাই ও জালিয়াতি রোধে এই ধরনের সমন্বিত অভিযান নিয়মিত জোরদার রাখা হবে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


