আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা কমাতে গোপনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন। একটি আঞ্চলিক যৌথ উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একজন কূটনীতিক, একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত এক ব্যক্তির মতে, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষভাগে এই সমঝোতা অর্জিত হয়। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল। সংঘাতের সূচনালগ্নে সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলের একাধিক দেশ ইরানি হামলার প্রত্যক্ষ ঝুঁকিতে ছিল। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হওয়ার পর সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের শেষ দিক থেকে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগ পরিচালিত হয়ে আসছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই যৌথ উদ্যোগ দুটি দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে।
দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের ওপর কোনো সামরিক হামলা না হলেও সম্প্রতি তেহরান থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেনারেল আসিম মুনির সরাসরি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে সতর্কবার্তা পাঠান। বার্তাটিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের একক সামরিক পদক্ষেপ বা হামলা অব্যাহত থাকলে উভয় দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহন উদ্যোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই যোগাযোগের পর সৌদি আরবে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ রাখা হয়।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, এই মধ্যস্থতার পেছনে পাকিস্তানের সুস্পষ্ট ভূ-রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। ইসলামাবাদের মূল লক্ষ্য ছিল রিয়াদের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক ক্ষেত্রে রিয়াদ যেন ইসলামাবাদের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, পাকিস্তান সেই ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর সংঘাত এড়াতে পাকিস্তানের এই প্রচ্ছন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।


