ধর্ম ডেস্ক
২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামী ২৭ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এই কার্যক্রম চলবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রাথমিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি দুই মাধ্যমেই ইলেকট্রনিক হজ ব্যবস্থার (ই-হজ সিস্টেম) সহায়তায় সাধারণ নাগরিকরা এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রাথমিক নিবন্ধনের পর প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে পরবর্তীতে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত বার্ষিক হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুসরণে বাংলাদেশ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সুনির্দিষ্ট সময়সূচি জারি করেছে। হজ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সঠিকভাবে শেষ করতেই এই আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সার্বিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য হজে গমনেচ্ছুদের কাছে হালনাগাদ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া সার্বিক শারীরিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জটিল রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ও শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের হজে গমনে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নিবন্ধন ফি ও অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি
হজ নিবন্ধনের ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে। প্রাথমিক নিবন্ধনে অংশ নেওয়ার পূর্বেই হজযাত্রীদের আবশ্যকভাবে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা প্রদানের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো পছন্দের মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন নিশ্চিত করা যাবে।
প্রাথমিক নিবন্ধন নিশ্চিতকারী ব্যক্তিদের চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ সাপেক্ষেই কেবল চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
নিবন্ধন কেন্দ্রসমূহ ও আর্থিক লেনদেন
নাগরিকদের সুবিধার্থে ই-হজ সিস্টেমের (hajj.gov.bd) মাধ্যমে অনলাইনে নিজেই ইউজার আইডি তৈরি করে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্র থেকেও নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলার মডেল মসজিদসমূহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস।
নিবন্ধন ফি জমাদানের ক্ষেত্রেও পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যক্তিদের নির্ধারিত ভাউচার ব্যবহার করে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় প্রাথমিক নিবন্ধনের টাকা জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের টাকা জমা দিতে হবে হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এজেন্সির নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় হজ পোর্টালে প্রকাশিত এজেন্সি প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা ও বিধিনিষেধ
পবিত্র হজ পালনে দীর্ঘ সফর ও শারীরিক পরিশ্রমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১৫ বছর বা তার কম বয়সী কোনো ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না।
এর বাইরে জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও হজের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার ও কিডনিজনিত মারাত্মক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ, স্নায়ুবিক কিংবা মানসিক ব্যাধি এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নিবন্ধনের আওতায় আসবেন না। এছাড়া যেসব ক্যান্সার রোগী কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি কিংবা বায়োলজিক্যাল থেরাপি গ্রহণ করছেন, তারাও হজে যেতে পারবেন না।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও ব্যাধি ছড়ানো রোধে সক্রিয় সংক্রামক ব্যাধি যেমন যক্ষ্মা বা হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কোনো স্বাস্থ্য সনদ দেওয়া হবে না।
পাসপোর্ট ও আনুষঙ্গিক নির্বাচন
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবেদনকারীকে প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়েই নিজস্ব পছন্দের জেলা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের কেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে। একই সাথে তিনি কোন ধরণের হজ পালন করবেন এবং কোন হজ প্যাকেজ নির্বাচন করবেন তাও চূড়ান্ত করতে হবে। প্রার্থীর পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকতে হবে। মেয়াদহীন বা ত্রুটিপূর্ণ পাসপোর্ট থাকলে প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।


