জাতীয় সংসদ ভবনে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে আগুন, হতাহত নেই

জাতীয় সংসদ ভবনে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে আগুন, হতাহত নেই

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল ভবনে অবস্থিত গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আগুন অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আনুমানিক বিকেল সোয়া তিনটার দিকে গণপূর্ত বিভাগ-১-এর কার্যালয়ে হঠাৎ আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়। বার্তা পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম নিয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় মূল ভবনের অন্যান্য অংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ চিহ্নিত করা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ভবনের সংশ্লিষ্ট কক্ষে কিছু ধোঁয়া দেখতে পান দায়িত্বরত কর্মীরা, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব অনতিবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত কক্ষটি ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত গণপূর্ত বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শুনেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। এই কমিটি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) এলাকায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় ও সুরক্ষামূলক সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিস্তারিতভাবে সর্বসাধারণকে অবহিত করা হবে।

জাতীয় সংসদ ভবন দেশের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা হওয়ায় এখানকার নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সংসদ এলাকার সামগ্রিক ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনার তাগিদ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদ ভবনের প্রতিটি সেবা বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিকায়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ