রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২ হাজার ৮০টি মামলা, ৫৩৪টি গাড়ি ডাম্পিং

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২ হাজার ৮০টি মামলা, ৫৩৪টি গাড়ি ডাম্পিং

জাতীয় ডেস্ক

ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ২ হাজার ৮০টি মামলা দায়ের করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। অভিযান পরিচালনাকালে আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ৫৩৪টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ২১১টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিনভর রাজধানীর আটটি ট্রাফিক বিভাগে একযোগে এই অর্থদণ্ড ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মঙ্গলবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা মহানগর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, যানজট নিরসন এবং সর্বসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন জোনে আলাদা টিমে বিভক্ত হয়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও সার্জেন্টরা ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, ফিটনেসবিহীন যান চালানো, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতি, হেলমেটহীন মোটরসাইকেল চালানো এবং অননুমোদিত পার্কিংয়ের মতো আইন লঙ্ঘনের অপরাধ শনাক্ত করেন।

বিভাগভিত্তিক মামলা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮টি বাস, ২০টি ট্রাক, ২৭টি কাভার্ডভ্যান, ২৬টি সিএনজি এবং ১৯৭টি মোটরসাইকেল। মতিঝিল বিভাগে ৩১৩টি মামলায় রয়েছে ২৮টি বাস, ৩টি ট্রাক, ১৪টি কাভার্ডভ্যান, ৭৫টি সিএনজি ও ১২২টি মোটরসাইকেল। ওয়ারী বিভাগে ২৯৪টি মামলায় ৪৩টি বাস, ৪১টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ডভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ৭৩টি মোটরসাইকেল আটক বা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ২৮৭টি కేసు দায়ের করা হয় (২২টি বাস, ২টি ট্রাক, ১৪টি কাভার্ডভ্যান, ৪৪টি সিএনজি, ১৪৩টি মোটরসাইকেল)। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৭৪টি মামলা (৭১টি বাস, ১টি ট্রাক, ১১টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি, ৬০টি মোটরসাইকেল) এবং লালবাগ বিভাগে ২২০টি মামলা दर्ज করা হয়।

গুলশান বিভাগে ১৮৭টি এবং রমনা বিভাগে ১৫৪টি মামলাসহ গাড়ি জব্দের ঘটনা ঘটেছে। সব বিভাগেই মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার হার ছিল সবচেয়ে বেশি, যার প্রধান কারণ ছিল চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহারে অবহেলা এবং ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা।

ঢাকা মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজটের তীব্রতা ও মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল, অবৈধ স্টপ থেকে যাত্রী ওঠানামা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালানো সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরণের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইনের প্রতি সচেতনতা ও ভয় বৃদ্ধি করবে। ডাম্পিং ও রেকার ব্যবস্থার ফলে অবৈধ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সড়কের শৃঙ্খলা অনেকাংশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

ডিএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে পুলিশ শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং নিয়মিত ট্রাফিক রুটিনের অংশ। ঢাকা মহানগর এলাকায় স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে ট্রাফিক বিভাগের এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ