কম্বোডিয়ায় মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য শাহাদাত আগারগাঁওয়ে গ্রেপ্তার

কম্বোডিয়ায় মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য শাহাদাত আগারগাঁওয়ে গ্রেপ্তার

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে কম্বোডিয়ায় মানব পাচার চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শাহাদাত একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করে আসছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সিটিটিসির একটি দল আগারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করে। সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। কম্বোডিয়ায় আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান ও উচ্চ বেতনের ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই পাচারকারী চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় দালালদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফাঁদ পাতত। কম্বোডিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি, হোটেল কিংবা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চবেতনের চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো চাকরিপ্রার্থীদের। প্রলোভনে পড়ে অনেকে নিজেদের জমানো সঞ্চয় ও সম্পত্তি বিক্রি করে চক্রটির হাতে মোটা অঙ্কের অর্থ তুলে দিতেন। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট ও ভ্রমণ দলিল কেড়ে নেওয়া হতো এবং অনেককে অবৈধ সাইবার স্ক্যাম সেন্টার বা অনলাইন প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় চাকরির কথা বলে তরুণদের পাচার করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষ করে সিটিটিসি, সিআইডি এবং র‌্যাব এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর অধীন মানব পাচার একটি অতি গুরুতর অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। শাহাদাতের মতো মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা আন্তর্জাতিক এই চক্রগুলোর গতিবিধি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিটিটিসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শাহাদাতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং রিমান্ডের আবেদন করা হবে, যাতে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং অর্থ পাচারের সাথে জড়িতদের পরিচয় উন্মোচন করা সম্ভব হয়। পুলিশের ধারণা, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মানব পাচারের সাথে যুক্ত আরও একাধিক ভূ ভুয়া এজেন্সির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

একই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরে যেকোনো ব্যক্তিগত লেনদেন বা প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ