আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে

আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের সার্বিক আর্থিক প্রতিবেদনে ইতিবাচক সূচক পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪১৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে আমানতের পরিমাণ ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ হাজার ৭১৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা গ্রাহকদের আমানত নির্ভরতা বাড়ার সংকেত দেয়।

গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন আয়ের বড় একটি অংশ বা প্রায় ৬০ শতাংশ এসেছে তাদের মূল অর্থায়ন কার্যক্রম থেকে। পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প আয়ের কৌশল হিসেবে সরকারি সিকিউরিটিজ ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। ফলে আইপিডিসির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকায়।

আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রথমার্ধে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের মোট সুদ আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪৮৮ কোটি টাকা হয়েছে। তবে পরিচালন দক্ষতা এবং আমানত ব্যবস্থাপনার কারণে নিট সুদ আয় আরও বেশি গতি পেয়েছে। আলোচ্য সময়ে নিট সুদ আয় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি টাকায়।

সুদ ও অন্যান্য খাতের আয় বৃদ্ধির সার্বিক প্রভাব পড়েছে মোট পরিচালন আয়ে। বছরের প্রথম ছয় মাসে আইপিডিসির মোট পরিচালন আয় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এককভাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পরিচালন আয় ছিল ১১২ কোটি ২০ লাখ টাকা, যেখানে একক প্রান্তিক হিসেবে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩৩ শতাংশ।

কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের সূচকেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) আগের বছরের ৮ দশমিক ১২ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে ১২ দশমিক শূন্য ২ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। যা পুঁজিমাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক প্রবৃদ্ধি ও অর্জন সম্পর্কে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং গ্রাহকদের আস্থাই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই আস্থা বজায় রেখে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে কোম্পানির চেয়ারম্যান জানান, বর্তমান বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও এই আর্থিক সাফল্য মূলত শক্তিশালী ব্যবসায়িক ভিত এবং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে নির্দেশ করে।

বাংলাদেশের অসংগঠিত খাতে অর্থায়ন, এসএমই ঋণ বিস্তার এবং কৌশলগত পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণের যে উদ্যোগ আইপিডিসি গ্রহণ করেছে, তা আগামী দিনগুলোতে তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন অর্থনীতি ও বাজার বিশ্লেষকরা।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ