আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় দামিয়েত্তা বন্দরে অবস্থানরত একটি মার্কিন মালিকানাধীন গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ড্রোন অথবা অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট এই অগ্নিকাণ্ডে দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে ও নিরাপত্তা পর্যালোচনায় জানা গেছে, আক্রমণটি মূলত আঘাত হানে ‘এনারগোস উইন্টার’ নামের একটি ভাসমান জ্বালানি সংরক্ষণ ও পুনর্গঠন ইউনিটে (এফএসআরইউ)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘এনারগোস ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর মালিকানাধীন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার এই দূরবর্তী জলযানের ডান দিকে আঘাত হানার পর অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পাশে অবস্থানরত ‘গ্যাসলগ সালেম’ নামের অপর একটি বাণিজ্যিক গ্যাসবাহী জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়ন থেকে জানা গেছে, একটি চালকহীন বিমান (ড্রোন) অথবা ডিরেক্ট-ফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমেই এই বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্র ও উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের মাস্তুল, পেছনের অংশ এবং কাঠামোগত নকশা পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা এবং দামিয়েত্তা বন্দরের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মূল অবকাঠামো রক্ষা করা গেলেও ভাসমান ট্যাংকার দুটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ঘটনার পর মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করা হলেও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়নি। মন্ত্রণালয় জানায়, বন্দরের একটি গ্যাস রূপান্তরকারী জাহাজ ও একটি গ্যাস মজুতকারী ডকে আগুন লাগার পরপরই দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। মিসরের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাউই স্বয়ং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক উদ্ধার কার্যক্রম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং প্রকৌশল ও কারিগরি দল বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে।
এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার সময়কাল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সম্প্রতি আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর পারস্পরিক সামরিক প্রতিক্রিয়া, বিমান হামলা এবং লোহিত সাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপর নানা হুমকি-ধমকির পটভূমিতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ও মার্কিন মালিকানাধীন সম্পদের ওপর হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি রুট ও কৌশলগত সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা দূরগামী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।


