শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

আইন ও বিচার বিভাগ

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন ও বিচার মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চাইলেও এর আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের (ডিবিএলএ) সঙ্গে ব্র্যাকের ‘সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি’ (সেল্প) এবং ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট’ (ব্লাস্ট)-এর পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন ও পরোয়ানা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত বা পরোয়ানাভুক্ত আসামি হলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। তবে দেশের ভৌগোলিক সীমানায় প্রবেশ করার মুহূর্ত থেকেই বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। শেখ হাসিনার পাসপোর্টহীন অবস্থায় দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিনি কীভাবে আসবেন তা সরকারের দেখার বিষয় নয়; তবে বিচার বিভাগীয় কর্তৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নির্ধারিত আইনি এখতিয়ার যথাযথভাবে প্রয়োগ করবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এবং মামলা জট কমানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মামলা জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের ২০টি জেলায় পরীক্ষামূলক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় মামলা দায়েরের হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৬২ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

আদালতের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এডিআর প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে শ্রমিকদের আইনি সহায়তায় ‘কোর্ট প্যারা লিগ্যাল’ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্র্যাকের সহায়তায় পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ ও সনদের মাধ্যমে সফল বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম ও মো. খাদেম উল কায়েস, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসাইন এবং ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ