যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর: কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় জোর

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর: কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় জোর

কূটনীতি ও পররাষ্ট্র ডেস্ক

ঢাকা–ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বৃহস্পতিবার তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

সফরের প্রথম দিনেই তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। তিন দিনের এই সফরে মার্কিন বিশেষ দূত কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন এবং সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান গতিপথ, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত অবস্থান এবং বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রাধান্য পাবে।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এ সফরকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন, সার্জিও গরের আগমন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও নিবিড় করবে। তিনি জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং যৌথ অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোরদার করতে দুই দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সার্জিও গর হলেন তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে গত মার্চে মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন। ধারাবাহিক এসব সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও বহুমাত্রিক ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ মার্কিন প্রশাসনের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর, মস্কোয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং আঙ্কারার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে এই মার্কিন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াশিংটন দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। প্রয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ বার্তাও তিনি বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছাতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সার্জিও গরকে পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কূটনীতি চালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি নতুন দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করছেন। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। ঢাকা সফরের আগে তার নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সফর ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক কৌশলেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

তিন দিনের এই সফর শেষে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য সুবিধা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে একটি ইতিবাচক রূপরেখা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ