অপরাধ ও আইন ডেস্ক
অপরাধী যে দলের বা পরিচয়েরই হোক না কেন, কোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। কোনো অপরাধী বা চাঁদাবাজের রাজনৈতিক পরিচয় আইনের হাত থেকে বাঁচার লাইসেন্স হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভার উদ্দেশ্য ছিল এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন জানান, রাষ্ট্র ও সরকার বর্তমানে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। শান্ত ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসেবে পরিচিত হাটহাজারীতে যেকোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। অতি সম্প্রতি হাটহাজারী এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি চাঁদাবাজির ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে ইতোমধ্যেই চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদেরও দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার রোধে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে। তবে এই সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, দখলদারি বা চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীকে কেবলই একজন অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে; দল, বর্ণ বা সমাজ দিয়ে তার বিচার হবে না।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উক্ত পর্যালোচনা ও দিকনির্দেশনামূলক সভায় স্থানীয় রাজনীতিক, সংবাদকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


