২৩ বছর পর ক্যাঙ্গারুর দেশে টেস্ট সিরিজ খেলতে দেশ ছাড়লো বাংলাদেশ দল

২৩ বছর পর ক্যাঙ্গারুর দেশে টেস্ট সিরিজ খেলতে দেশ ছাড়লো বাংলাদেশ দল

স্পোর্টস ডেস্ক

দীর্ঘ ২৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ খেলতে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঐতিহ্যবাহী ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে প্রথম বহরে রওনা হন জাতীয় দলের একদল ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ।

অস্ট্রেলিয়ার বিমান ধরা প্রথম বহরে ছিলেন টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং তরুণ ব্যাটার অমিত হাসান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কোয়াডের বাকি সদস্য ও কোচিং স্টাফের অন্যান্য সদস্যরা সুবিধাজনক পৃথক ফ্লাইটে দ্রুতই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সফরকারী বহরে উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদসহ সাপোর্টিং স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। মূল লড়াই শুরুর আগেই সেখানকার কন্ডিশন, আবহাওয়া ও স্থানীয় উইকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দলকে কিছুটা আগেভাগেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে নিজেদের চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করতে জাতীয় দল একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশগ্রহণ করবে।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, সিরিজের প্রথম টেস্টটি শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের ঐতিহাসিক মারারা ওভালে। পরবর্তীতে ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৩ সালে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইনে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ দল, যেখানে তাদের ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছিল। সেই সফরের পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ওই ভেন্যুতে আর কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বর্তমান বাংলাদেশ দলের প্রায় সব ক্রিকেটারের জন্যই ডারউইন ও ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন সম্পূর্ণ অচেনা ও নতুন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

কন্ডিশনের অজানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফর শুরুর পূর্বে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, মাঠ ও পরিবেশের অভিজ্ঞতা কম থাকলেও বিসিবির ডেটা অ্যানালিস্ট এবং টেকনিক্যাল টিম প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত পরিকল্পনা সাজিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে লাল বলের ক্রিকেট খেলাকে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক উল্লেখ করে অধিনায়ক শান্ত মন্তব্য করেন, বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দল যদি তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াকু ক্রিকেট উপহার দিতে পারে, তবে ভবিষ্যতে বিশ্বের বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে আরও বেশি দ্বি-পাক্ষিক টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের এক বিশাল সুযোগ নিয়ে মাঠে নামছে টাইগাররা। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল দীর্ঘদিনের অধরা সাফল্য ফিরে পাবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ