আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) মধ্য, দক্ষিণ ও উত্তর গাজার একাধিক স্থানে এ হামলা চালানো হয়।
চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় পৃথক বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হন। তাঁদের একজন ৩৩ বছর বয়সী মাহমুদ মোহাম্মদ ফাতায়ের এবং অপরজন ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবদেল নাসের আল-খাতিব। শুহাদা আল-আকসা হাসপাতাল সূত্র জানায়, দেইর আল-বালাহর আবু আরিফ সড়ক এবং সালাহ আল-দিন সড়কে এসব হামলা পরিচালিত হয়। এছাড়া আবু আরিফ সড়কে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হন।
মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আল-আওদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা চালানোর আগে টেলিফোনে ভবন খালি করার বার্তা দেয় ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। এর পরপরই বিমান হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে অপর একটি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হলে তা ধসে পড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাসলাহ এলাকায় বেসামরিক ড্রোন হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শহরটির আল-আলাম ও আবু হামিদ গোলচত্বরের নিকটবর্তী স্থানে সামরিক যান থেকে চালানো গুলিতে দুই পথচারী আহত হন।
উত্তর গাজার জাবালিয়া ও গাজা সিটির আল-সাফতাউই এলাকাতেও ইসরায়েলি বিমান ও কোয়াডকপ্টার হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
মার্কিন মধ্যস্থতায় গাজায় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,২০৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,৯৪৩ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ মেয়াদী সংঘাত ও হামলায় মোট ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।


