স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ডেস্ক
দেশের স্বাস্থ্য খাতকে পুনর্গঠন ও মানোন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিগত কয়েক দশকের নানা অবহেলা ও বৈষম্য কাটিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি এ খাতের বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) মিলনায়তনে আয়োজিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের মূল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও গঠনমূলক অবহেলার কারণে এখানে বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ৫০টি অধ্যাপক পদ এবং ১৫০টি সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের পদ খালি রয়েছে। তিনি জানান, দ্রুত এসব শূন্য পদ পূরণ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বাজেটে এবার স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজের গতি ফিরিয়ে আনা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফয়েজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ ডা. আবদুর রব, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাসুদ করিম এবং হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইব্রাহিম চৌধুরী। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাসেবার সার্বিক মানোন্নয়নে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং হাসপাতালে চিকিৎসকদের সার্বিক সুরক্ষায় ‘চিকিৎসক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের জোরালো দাবি জানান তারা। প্রতিমন্ত্রী এসব দাবির বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নে সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সভা শেষে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।


