স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের স্বাস্থ্যখাতকে সচল রাখা এবং তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম রুখতে এবং দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার অবহেলা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন।

শনিবার দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান দায়িত্ব। স্বাস্থ্যখাতকে দেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই খাতের সার্বিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সতর্ক করে দেন যে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে চিকিৎসকদের নিজেদের আগে সৎ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসাকেন্দ্রে এসে হয়রানির শিকার না হন এবং যথাযথ চিকিৎসা পান, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশ দেন তিনি। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার এখন থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদেশে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রবাসীদের এই অবদান টেকসই করতে হলে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ-সবল করে গড়ে তুলতে হবে।

তরুণদের সুস্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে দক্ষ ও সুস্থ মানবসম্পদের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের তরুণরা যদি স্বাস্থ্যগতভাবে সক্ষম ও দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠে, তবে তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সফলতার সাথে কাজ করতে পারবে, যা পরোক্ষভাবে দেশের জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবার বিদ্যমান সংকট, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও জনবল ঘাটতির কথা শোনেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। একই সাথে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার ঘোষণা দেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ