সিলেট-জাফলং রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু

সিলেট-জাফলং রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু

জাতীয় ডেস্ক

সিলেট থেকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নে সিলেট-জাফলং সম্ভাব্য রেলপথ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি দল।

গতকাল শনিবার বিকেলে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে শীর্ষ কর্মকর্তারা এই এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকারী বিশেষ দলে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. জিয়াউল হক, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহমদ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলটি সম্ভাব্য রেললাইনের প্রস্তাবিত রুট, ভূমির বিন্যাস, সংযোগ সড়ক ও প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জসমূহ খতিয়ে দেখে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক ও কারিগরি দিক নিয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত সিলেট-জাফলং রেলপথটি বাস্তবায়িত হলে পুরো সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ কাঠামোয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে পর্যটন ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াত যেমন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, তেমনি পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিলেটের জাফলং এলাকাটি পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় পাথর, বালু ও কৃষি পণ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেলপথ চালুর মাধ্যমে দ্রুত ও স্বল্প খরচে পণ্যবাহী ওয়াগনের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে। ফলে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পর্যটন খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা শেষ করে প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন ও অর্থায়নের প্রক্রিয়ায় নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ