পরিবেশ সুরক্ষায় দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরিবেশ সুরক্ষায় দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

পরিবেশ রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশকে পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) ভিডিও বার্তায় প্রচারিত এক বিশেষ ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত স্তরে ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

ভিডিও বার্তায় বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন থেকে চার দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জনপরিসরে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নগরায়ণ ও আধুনিক জীবনযাত্রার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা এবং গ্রামের রাস্তাঘাট, হাটবাজার কিংবা জনসমাগমস্থলগুলোতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এসব বর্জ্য মাটি ও পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

প্রতিদিনের যাতায়াত ও নাগরিক জীবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সিংহভাগ মানুষ প্রতিদিন হেঁটে, রিকশা বা গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। কিন্তু উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাসের কারণে সাধারণ পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে দৃশ্যমান সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই বাতাসের গুণমান হ্রাস পেয়ে রোগব্যাধির বিস্তার ঘটছে। তিনি বাসাবাড়ির ভেতরের পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে বাইরের গণপরিসরের তুলনা টেনে বলেন, নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মানসিকতা যদি আমরা পুরো দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারি, তবে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।

দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোর ঐতিহ্য ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন পুকুর, খাল ও জলাশয়ের পাড়ে এবং পানিতে আবর্জনার স্তূপ লক্ষ্য করা গেছে। অথচ একসময় এসব জলাশয়ের পাড় ছিল সাধারণ মানুষের একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার ও অবসর বিনোদনের অন্যতম স্থান। বর্তমানে অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণে এসব প্রাকৃতিক স্থান তাদের সৌন্দর্য ও স্বকীয়তা হারাচ্ছে।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন পার্ক, পর্যটন কেন্দ্র ও বিনোদন স্থানে ভ্রমণকালীন প্লাস্টিক বর্জ্য, লজেন্সের মোড়ক বা বাদামের খোসা নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র না ফেলার জন্য সাধারণ পর্যটক ও দর্শনার্থীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন স্থানগুলোকে দূষণমুক্ত রাখা জাতীয় দায়িত্বের অংশ বলেও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

সার্বিক পরিবেশ রক্ষাকে একটি যৌথ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সৌন্দর্য রক্ষা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের সার্বিক রূপান্তরে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। প্রতিটি নাগরিক যদি প্রতিদিন নিজ নিজ বর্জ্য সঠিক স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তবে অতি দ্রুত বাংলাদেশ একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ