অপরাধ ডেস্ক
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে বিশেষ কায়দায় তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চালক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ‘হানিফ প্লাস’ পরিবহনের একটি বাস জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের পাইরোল এলাকার আলী আজগরের ছেলে বাসচালক মো. আবু হানিফ (২৪) এবং একই জেলার আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মধ্যম পাড়ার আবু তালেবের ছেলে বাসের সহযোগী মো. মুজিব (২১)।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে মাদকের একটি বড় চালান চট্টগ্রামের দিকে আসছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার ‘মেসার্স আলম অ্যান্ড সন্স’ প্রতিষ্ঠানের সামনে একটি অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। বিকেল পৌনে তিনটার দিকে কক্সবাজার দিক থেকে আসা চট্টগ্রামমুখী হানিফ প্লাসের একটি যাত্রীবাহী বাসকে থামার সংকেত দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গাড়িটি থামার পর দেখা যায় তাতে কোনো সাধারণ যাত্রী ছিল না। চালক ও তার সহযোগীর কথাবার্তা ও চলাফেরায় বৈপরীত্য লক্ষ্য করায় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে, বাসের পেছনের একটি সিটের পাশে পারটেক্স বোর্ড দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে ইয়াবার চালানটি রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি আলাদা প্যাকেট থেকে ৩,৬廊০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের চান্দগাঁও ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন পেশার আড়ালে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান এনে চট্টগ্রাম শহর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা সরবরাহ করতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা বাসে বিশেষ গোপন চেম্বার তৈরির পদ্ধতি অবলম্বন করছিলেন।
ঘটনার পর বাকলিয়া থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত বাস এবং উদ্ধার হওয়া ইয়াবাসহ আসামিদের বাকলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদক পাচারের এই নতুন কৌশলের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত পয়েন্ট থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক প্রবেশ প্রতিরোধে তল্লাশি চৌকিগুলোর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গণপরিবহনকে ব্যবহার করে যে কোনো ধরনের অবৈধ ব্যবসা বন্ধে মহাসড়কগুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


