আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও ইতিহাস সংরক্ষণে সরকারের প্রতি জামায়াতের আমিরের আহ্বান

আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও ইতিহাস সংরক্ষণে সরকারের প্রতি জামায়াতের আমিরের আহ্বান

রাজনীতি ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীরদের জাতীয় সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহাসিক পটভূমি সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক অর্জন বা দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে কোনো প্রকার সমঝোতা করা হবে না।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যকালে জামায়াত প্রধান আন্দোলন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং নিহত ও আহতদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যেন কোনো ধরনের নিগ্রহের শিকার হতে না হয় এবং তাদের ত্যাগের স্মারক যেন বিনষ্ট না করা হয়। দেশ ও বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু আহত ব্যক্তির স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও অবশ হয়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি তাদের যথার্থ চিকিৎসা ও সর্বাত্মক সহযোগিতার জোর দাবি জানান।

জাতীয় ইতিহাস রচনার দীর্ঘদিনের ঘাটতি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রকৃত সংগ্রামীদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি সম্ভব হয়নি। বিগত সরকারগুলোর অবহেলার কারণে ইতিহাসের সঠিক নথিবদ্ধকরণ বা স্মৃতি সংরক্ষণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব পটপরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এ লক্ষ্যে আন্দোলন ও শহীদদের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস প্রণয়নে ব্যক্তিগত বা সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক নীতি ও অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে যে জাতীয় প্রতিশ্রুতি এবং পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার পাঁয়তারা চলছে। বিগত সরকারের আমলের নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের বিচারের ধীরগতিতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই সাথে পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ চালু না হওয়া আন্দোলনকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টার শামিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জামায়াত প্রধান জোর দিয়ে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। যেকোনো ধরনের জাতীয় নির্বাচন বা গণরায়ের ফল মেনে নেওয়ার পাশাপাশি কোনো ধরনের প্রলোভন কিংবা আধিপত্যবাদের কাছে নিজেদের আদর্শ বিক্রি না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থে তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ