জাতীয় ডেস্ক
জুলাই সনদকে ভিত্তি করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি সর্বস্তরের অংশীজনের মতামত গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের বিভিন্ন ধারার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং আইন ও বিচার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইনমন্ত্রী জানান, জুলাই সনদ ২০২৫-এর আলোকে সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জাতীয় সংসদ এই বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এটি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে। সনদ প্রণয়নে যারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ‘জুলাই যোদ্ধা’, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সংশোধনের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হবে।
কমিটির গঠন ও রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চারজন, একজন স্বতন্ত্র এবং বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ নির্দিষ্ট রাখা হয়েছিল। বিরোধী দল এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম জমা না দিলেও তাদের অন্তর্ভূক্তির পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিরোধী দল সরাসরি যোগ না দিলেও জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের সুপারিশগুলো সংবিধান সংশোধনের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সংশোধনী প্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত ও আইনি দিক ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের ১ থেকে ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রস্তাবগুলো হুবহু না রেখে সাংবিধানিক ও আইনি পরিভাষায় রূপান্তর করা হবে। দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোও সনদের অংশ হিসেবে পর্যালোচনায় থাকবে। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে এবং তা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ আছে, সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো বিবেচনা করা হবে।
আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের সার্বিক সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পুরো দলিলটি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। সংস্কার কার্যক্রমে আবেগের পরিবর্তে আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি এবং ভারতের ‘বেসিক স্ট্রাকচার থিওরি’সহ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত সাংবিধানিক আইনশাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত নীতিসমূহ অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে বারবার পরিবর্তনের প্রয়োজন না রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সময় নিয়েই এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান, মো. নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।


