১৪৪৮ হিজরির ওমরাহ মৌসুম: ১২৮ এজেন্সির অনুমোদন দিল ধর্ম মন্ত্রণালয়, কঠোর শর্ত আরোপ

১৪৪৮ হিজরির ওমরাহ মৌসুম: ১২৮ এজেন্সির অনুমোদন দিল ধর্ম মন্ত্রণালয়, কঠোর শর্ত আরোপ

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

আগামী ১৪৪৮ হিজরি (২০২৬-২৭) ওমরাহ মৌসুমের জন্য ১২৮টি ওমরাহ এজেন্সির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে যাত্রী পরিবহন, সেবা প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির অনুমোদন বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-৩ (ওমরাহ) শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ- সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিকভাবে সার্কুলার জারি করেছে। মঙ্গলবার বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো ওই সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ১২৮টি এজেন্সি নির্ধারিত নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ওমরাহযাত্রী পাঠাতে পারবে। সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি’ এবং ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২২ (সংশোধিত)’ কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ওমরাহযাত্রীদের সঠিক সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছানো, চুক্তিকৃত সেবাসমূহ শতভাগ নিশ্চিত করা এবং সফর শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ওমরাহ এজেন্সিকে বহন করতে হবে।

প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, প্রতি মৌসুমে একটি এজেন্সি সর্বোচ্চ এক হাজার জন ওমরাহযাত্রী পাঠাতে পারবে; নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত যাত্রী পাঠানোকে চরম অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিটি এজেন্সির জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার যাবতীয় তথ্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ওমরাহযাত্রীদের সাথে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি প্যাকেজের বিস্তারিত খরচ, প্রসেসিং ফি এবং সেবার বিবরণ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে। যাত্রীদের সাথে এজেন্সির একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে রওয়ানা হওয়ার আগে নির্ধারিত ‘ফরম-৬’ অনুযায়ী তাদের যাবতীয় তথ্য ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ হজ অফিসে জমা দিতে হবে।

নতুন নিয়মাবলীতে পাসপোর্ট ও অবস্থান সংক্রান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যদি কোনো ওমরাহযাত্রী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে না আসেন, তবে ওই যাত্রীর নির্ধারিত ফেরার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, পাসপোর্ট নম্বর এবং দেশে না ফেরার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই তথ্য গোপন করা বা সময়মতো না জানানো হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে পাঠানো সব ওমরাহযাত্রীর গমন ও প্রত্যাগমনের বিস্তারিত প্রতিবেদন ঢাকার হজ অফিসের পরিচালক এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী এজেন্সিকে পরবর্তী বছরের অনুমোদিত তালিকায় রাখা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া তালিকা প্রকাশের পর যদি কোনো এজেন্সির দেওয়া তথ্য অসত্য বা ভুল প্রমাণিত হয়, তবে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া ছাড়াই ওই এজেন্সির অনুমোদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ