রাজনীতি ডেস্ক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ও অডিও বার্তা প্রকাশের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও ভারতের অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ এবং ‘মায়াকান্না’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এক দেশের দাগি পলাতক আসামিকে অন্য দেশে আশ্রয় দিয়ে প্রচারের সুযোগ দেওয়া গণতান্ত্রিক আচরণের পরিপন্থী।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে ‘গ্যালারি হামিদুজ্জামান’ ও ‘বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সম্প্রতি দাবি করেছেন যে সেখানে বসে শেখ হাসিনার বক্তব্য বা অডিও বার্তা প্রকাশের বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। অথচ অতীতে যখন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ভারতের দিল্লিতে বসে একটি সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন, তখন ভারত সরকার তাকে সেই অনুমতি দেয়নি। একই ভূখণ্ডে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে দুই ধরনের নীতি প্রয়োগ করে ভারত নিজেদের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী আচরণ উন্মোচিত করেছে।
সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক কাঠামোর তোয়াক্কা না করে ফ্যাসিবাদের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিগত সরকার ছাত্র-জনতা, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর নির্বিচারে চড়াও হয়েছিল। হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে এবং জনগণের তীব্র ঘৃণার মুখে তৈরি হওয়া অদম্য জাগরণ থেকেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর ভর করে টিকে থাকা এই সরকারের মূল লক্ষ্য কখনোই জনকল্যাণ বা দেশপ্রেম ছিল না।
ভারতকে একটি বন্ধুপ্রতীম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে অপরাধে অভিযুক্ত ও পলাতক ঘোষিত একজন ব্যক্তি অন্য একটি গণতান্ত্রিক দেশের ভূখণ্ডে বসে নিয়মিত সভা-সমাবেশ বা অডিও বার্তার মাধ্যমে রাজনৈতিক উসকানি দিতে পারে? রিজভী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশপ্রেমী হওয়ার চেয়ে ‘ভারতপ্রেমী’ হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই নয়াদিল্লি আজ একজন চিহ্নিত পলাতক আসামির সমস্ত অপরাধ ও দায় অগ্রাহ্য করে চলেছে।
অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত আন্দোলনের স্মারকে পরিণত হওয়া ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর আলোচিত্র প্রদর্শিত হয়। ফটো সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহস ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ভিজ্যুয়াল মিডিয়া এবং আলোকচিত্রগুলো ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে ধারণ করে রাখে, যা কোনো অপপ্রচার দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।


