আইন ও বিচার ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং পেপার স্প্রে প্রয়োগের মামলায় সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে পুলিশের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকার বাসভবন থেকে সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আসামিরা তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে অস্ত্রশস্ত্রসহ অবস্থান নেন। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান এবং মূল সড়কে বালু ও আবর্জনাভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন।
পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সকালে খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা পুনরায় বাধা দেন এবং সেখানে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর পেপার স্প্রে প্রয়োগ করেন। ওই ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ অনেক নেতাকর্মী শারীরিকভাবে অসুস্থ ও আহত হন।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। এজাহারে সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশাসহ ১১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(১)বি ধারায় অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা প্রদান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানো এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্য ষড়যন্ত্র উদঘাটনে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারী সংস্থা ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করতেই এই রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


