নদী ও খালপাড় রক্ষায় পরিবেশবান্ধব বিন্না ঘাস ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নদী ও খালপাড় রক্ষায় পরিবেশবান্ধব বিন্না ঘাস ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক
নদী ও খালপাড়ের ভাঙন রোধ, উপকূলীয় বাঁধ সংরক্ষণ এবং সড়ক ও রেললাইনের স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রথাগত কংক্রিট ও জিও ব্লকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিন্না ঘাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সংক্রান্ত নানা দিক তুলে ধরা হয়। সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য ও পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বিন্না ঘাসের কার্যকারিতা ও প্রয়োগ পদ্ধতি বিষয়ে একটি কৌশলগত উপস্থাপনা পেশ করেন। বুয়েটের এই গবেষক জানান, দেশের নদীভাঙন প্রবণ অঞ্চল, চরাঞ্চল, হাওরের সড়ক এবং সড়ক ও রেললাইনের পাশ রক্ষায় বিন্না ঘাস একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী সমাধান। সিমেন্টের তৈরি ভারী ব্লক বা প্লাস্টিকজাত জিও ব্যাগের তুলনায় এই প্রাকৃতিক ঘাসের মূল মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে, যা ক্ষয়রোধে অত্যন্ত কার্যকর। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।
উপস্থাপিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সভায় এটি আর কেবল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে না রেখে জাতীয়পর্যায়ে প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা নিয়ে নীতিগত আলোচনা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে প্রথাগত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রাকৃতিক ব্যবস্থার এ সমন্বয় দেশের পরিবেশ রক্ষায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সরকারি ব্যয় সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা জোরদার হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগের প্রশংসা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের উদ্ভাবনী ও বিকল্প সমাধান বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোর অর্জন পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ