ঝিনাইদহে উদ্ধারকৃত ১০৬ মোবাইল ফোন ও টাকা হস্তান্তর, অপরাধ দমন অভিযানে সাফল্য

ঝিনাইদহে উদ্ধারকৃত ১০৬ মোবাইল ফোন ও টাকা হস্তান্তর, অপরাধ দমন অভিযানে সাফল্য

অপরাধ ডেস্ক
ঝিনাইদহে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১০৬টি মোবাইল ফোন এবং বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস প্ল্যাটফর্মে ভুলবশত চলে যাওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে গত এক মাসে পরিচালিত একাধিক অভিযানে দুটি হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও অপহরণ মামলার মূল অভিযুক্তসহ ১৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মোবাইল ফোন ও অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান (পিপিএম-সেবা) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাইবার সেলের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধারকৃত এ সম্পদ হস্তান্তর করেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও জেলা পুলিশ ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর থানা এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদর থানার দুটি পৃথক হত্যা মামলায় জড়িত ৩ আসামি, কোটচাঁদপুর থানার ডাকাতি মামলার ৩ ডাকাত এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সদর থানার দস্যুতা মামলায় ১০ জন গ্রেফতারসহ ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক ও মোবাইল উদ্ধার এবং কালীগঞ্জ থানার অপর একটি দস্যুতা মামলায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে ঝিনাইদহ সদর থানার দুটি পৃথক অপহরণ মামলার ২ ভিকটিমকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ২ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধারকৃত ১০৬টি হারানো ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের মূল মালিকদের জিডি ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সনাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রযুক্তিগত অপরাধ দমনে সাইবার সেলের ভূমিকা তুলে ধরে জানানো হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং ও হয়রানির শিকার ২৮ জন ভিকটিমকে পূর্ণ আইনি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে নিখোঁজ হওয়া ২ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল হস্তাহান্তর অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল জালিয়াতি বর্তমানে এক গুরুতর সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সাইবার অপরাধ রুখতে জেলা পুলিশ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদারিত্ব ব্যবহার করছে।” নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মোসফেকুর রহমান এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ