স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ভাইরাসজনিত এই ছোঁয়াচে রোগে সারাদেশে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২১৮ জন। এই নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে হামে আক্রান্ত সন্দেহে মোট ৭৬৭ জন এবং চিকিৎসকদের নিশ্চিতকরণে ৯৬ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো দেশের সার্বিক হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে মহামারী প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন ২০১ জন। অবশিষ্ট এক হাজার ১৭ জন রোগী হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৫ জন সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ১৬ হাজার ৯৪১ জনের দেহে হাম ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি বছর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৮২২ জন রোগী। এর মধ্যে সিংহভাগই শিশু। তবে নিবিড় পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এক লাখ ১২ হাজার ৫২৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকাদান এবং পুষ্টির অভাবের কারণে এর বিস্তার দ্রুত ঘটে। বিশেষ করে শুষ্ক আবহাওয়া ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত শিশুকে পৃথক রেখে সঠিক সেবা প্রদান করা গেলে চিকিৎসায় রোগটি নিরাময়যোগ্য।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন। শিশুদের নির্ধারিত বয়সে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে অবিভাকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের দুর্গম ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিদরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার এবং কোনো এলাকায় প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।


