বিনোদন ডেস্ক
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক ওপেন কনসার্টে পরিবেশনাকালে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড সংগীতশিল্পী হাসানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত উন্মুক্ত এই কনসার্টে মঞ্চে পরিবেশনরত অবস্থায় দূর থেকে ছুঁড়ে মারা একটি পানির বোতল সরাসরি তার মাথায় আঘাত করে। অপ্রত্যাশিত এই আঘাতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি পুনরায় গান পরিবেশন চালিয়ে যান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সংগীতাঙ্গন ও সাধারণ শ্রোতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিনোদন জগতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগীত ও অভিনয় অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সুরকার প্রিন্স মাহমুদ, সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, লুৎফর হাসান, তানভীর তারেক এবং চিত্রনায়ক মিশা সওদাগরসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ শাস্তির দাবি এবং উন্মুক্ত কনসার্ট ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তরুন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানসহ অসংখ্য ভক্ত এ ঘটনার জন্য লজ্জা প্রকাশ করে শিল্পীর কাছে অনুশোচনা ব্যক্ত করেছেন।
আইনগত ব্যবস্থা বা বিতর্ক না বাড়িয়ে পুরো বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পী হাসান নিজেই। দেশের দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতার মুখে কখনো পড়েননি উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিল্পীদের বিচার করা উচিত নয়। শিল্পীরা নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ বা গোষ্ঠীর জন্য গান করেন না; সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক নানা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ রক্ষা করা তাদের পেশাগত অংশ মাত্র। তাই কালজয়ী শিল্পীদের নিরাপত্তা ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি সর্বসাধারণের দায়িত্ব।
জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক আয়োজনে দেশের প্রখ্যাত ব্যান্ড শিল্পীর ওপর এমন আক্রমণ সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। উন্মুক্ত কনসার্টে পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা ও সুরক্ষাবেষ্টনী বজায় না থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কিংবা দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীরা সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনায় অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চা ও উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক উৎসবের নিরাপত্তার নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের পর্যালোচনার তাগিদ দিচ্ছে।


