ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি পরিদর্শন ট্রাইব্যুনালের: গুম ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিতে জোরালো বার্তা

ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি পরিদর্শন ট্রাইব্যুনালের: গুম ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিতে জোরালো বার্তা

আইন আদালত ডেস্ক
ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত বহুল আলোচিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)—যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত—পরিদর্শন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিদল। শনিবার দুপুরে এই পরিদর্শনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বিগত সরকারের আমলে এই গোপন বন্দিশালায় বিরোধী মতের অগণিত মানুষের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। এমনকি এক-এগারোর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও এই কেন্দ্রে এনে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণে প্রমাণিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারক ও প্রসিকিউটরদের যৌথ প্রতিনিধিদল ন্যায়বিচারের সার্থেই সরেজমিনে এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ওই কেন্দ্রে মানুষকে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে বন্দি রেখে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হতো। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিসত্তাকে এভাবে অন্তরীণ রাখা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণীর অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এই গোপন টর্চার সেল তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন শাসনব্যবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম করে এসব স্থানে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হতো, যাদের অনেকেরই খোঁজ আজ পর্যন্ত মেলেনি। তবে ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এসব গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচারকাজ দ্রুততার সাথে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই ঘটনার সাথে জড়িত অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে বাকিদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এক-এগারোর প্রেক্ষাপট টেনে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, জেআইসির নির্দিষ্ট কক্ষে এনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর চালানো নির্যাতনের তথ্য ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব তদন্তে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে কোনো সরকারি সংস্থা বা বাহিনীর অধীনে ‘আয়নাঘর’ বা টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল গঠন করে অসাংবিধানিক বন্দিশালা পরিচালনা করা না যায়, সে বিষয়ে সরকারের কাছে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জোর সুপারিশ করা হবে।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন বজায় রাখার প্রতি তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে কোনো নাগরিক অপরাধ করলে তাকে প্রচলিত আইনের নিয়ম মেনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে হবে। কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে কাউকে গুম ও নির্যাতন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ওই গোপন কেন্দ্রটিতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্মমতা প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল প্রতিটি ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ