অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে চার কার্যদিবসের লেনদেনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেলেও বাজারটির দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। বড় মূলধনি কয়েকটি নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাসের কারণে সূচক নিম্নমুখী হলেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সার্বিক লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের চার কার্যদিবসে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যান্য সূচকের মধ্যে শীর্ষ ৩০টি বাছাইকৃত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকটি ২৫ পয়েন্ট হারিয়ে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ২ হাজার ২১৭ পয়েন্ট। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮১ পয়েন্টে। সূচকের এই ধারাবাহিক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) মতো বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির দরপতন।
সূচক কমলেও ডিএসইতে মূলধনের প্রবাহ ও গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে চার কার্যদিবসে মোট ৪ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে লেনদেনের মোট পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কার্যদিবস কম হওয়ায় মোট লেনদেন পরিমাণগতভাবে কম মনে হলেও দৈনিক গড় লেনদেনের ভিত্তিতে বাজার ইতিবাচক ধারায় ছিল। এ সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার তুলনায় ১১.৫১ শতাংশ বা প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও কর্পোরেট বন্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮৮টি সিকিউরিটিজের, কমেছে ১৭৯টির, অপরিবর্তিত ছিল ২২টির এবং বাকি ২২টি সিকিউরিটিজের কোনো লেনদেন হয়নি।
খাতভিত্তিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট লেনদেনের ২২.১ শতাংশ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৪ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে সাধারণ বিমা খাত এবং ১১.৫ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া প্রকৌশল খাত ৯.৬ শতাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাত ৬.৯ শতাংশ লেনদেন অবদান রেখে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ইতিবাচক অবদান রেখেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত, যেখানে রিটার্ন এসেছে ৪.৯ শতাংশ। সাধারণ বিমা খাতে ৩ শতাংশ, জীবন বিমা খাতে ২.৯ শতাংশ, পাট খাতে ২.৫ শতাংশ, সেবা খাতে ২.৪ শতাংশ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ০.১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন পাওয়া গেছে। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে (২.৮ শতাংশ), সিরামিক খাতে (১.৬ শতাংশ) এবং সিমেন্ট খাতে (১.৩ শতাংশ)।
একই সময়ে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের নিম্নমুখী ধারা পরিলক্ষিত হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ০.২২ শতাংশ বা ৩৫ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭২৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৭৬০ পয়েন্ট। সিএসইর অপর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ০.৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৮০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। বাজারে অংশ নেওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৯টির, কমেছে ১২৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।


