রাজনীতি ডেস্ক
জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং জনগণের সার্বিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন শেষ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কোনো বিশেষ সরকারের সাফল্য প্রচার করা এই আয়োজনের উদ্দেশ্য নয়; বরং বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য।
শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রদর্শনীতে বিগত শাসনামলের দুঃশাসন, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনীতে জাতীয় নেতাদের অবদান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ইতিহাসে যাঁর যে ইতিবাচক ও কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি তাঁদের দল গভীর শ্রদ্ধাশশীল। ইতিহাসের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপনের অংশ হিসেবেই আয়োজনে সব পক্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করা হয়েছে।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সালে একটি সমঝোতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তদানীন্তন ক্ষমতাসীন দল বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সে সময় পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার মাধ্যমে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্বল করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা করা হয়। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ করায়ত্ত করার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে চাপ দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।
বিগত ১৫ বছরের গুম, খুন ও দমনপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিরোধী মতের বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, যাদের সন্ধান আজও মেলেনি। সমাজ বা রাষ্ট্রের কোনো শ্রেণী-পেশার মানুষই শাসকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। জনগণকে নাগরিকের পরিবর্তে প্রজার মতো বিবেচনা করা হতো।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে প্রতারণামূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাময়িকভাবে দমন করা হলেও ২০২৪ সালে আইনকে ব্যবহার করে তা পুনরায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদেই ছাত্রসমাজ পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অসংখ্য প্রাণহানি সত্ত্বেও ছাত্র-জনতার অদম্য প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশত্যাগে বাধ্য হন।
উপস্থিত জামায়াত নেতাদের উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিগত জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং শহীদ পরিবারের চাওয়া-পাওয়াকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনাই এই আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।


