বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক সংস্কারে সরকারের অঙ্গীকার

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক সংস্কারে সরকারের অঙ্গীকার

জাতীয় ডেস্ক
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ চক্র পরিকল্পিতভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত সরকারের অপরিকল্পিত প্রকল্প ও অনিয়মের কারণে সৃষ্ট এই সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন, নতুন কর্মী নিয়োগ এবং চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবি পর্যালোচনার স্পষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর প্রশাসন এবং দুর্বল স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নানা স্তরে বিগত শাসনব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উন্নয়ন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তবে এসব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দেশকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে দমন করা হবে। অতীতের ভুল নীতির কারণে তৈরি হওয়া সংকট দ্রুত সমাধান করে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যনীতি’ বাস্তবায়ন করা। রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সারাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। নিবন্ধিত চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই স্বাস্থ্যকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধমূলক পরামর্শ প্রদান করবেন।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীতে জিডিপির মোট ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
চিকিৎসকদের উত্থাপিত পেশাগত দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, পাঁচ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা পরিচালনা, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা এবং অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছর করার প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদান, বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নে সরকার ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা চিকিৎসকদের রাজনীতি সচেতন হওয়া স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পেশাগত দায়িত্ব ও চিকিৎসাসেবা প্রদান যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ