সারাদেশ একটি স্পর্শকাতর সময় পার করছে: তথ্যমন্ত্রী

সারাদেশ একটি স্পর্শকাতর সময় পার করছে: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
বর্তমান সরকার একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল সময় অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। দেশের সাধারণ মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও উপস্থিতি থাকলে এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি পেরিয়ে সরকার উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক নানা ঘটনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত বার্তা দেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বুদ্ধিবৃত্তিক বা তাত্ত্বিক চর্চার আড়ালে ফ্যাসিজম বা স্বৈরাচারী মানসিকতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সমাজের কোনো অংশ বা ব্যক্তি যদি বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটাতে চায়, তবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরনের মানসিকতাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা ছাড়া নাগরিকদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। মানুষের চিন্তা-চেতনায় বা মননে যদি এখনো স্বৈরাচারী আদর্শের প্রতি কোনো ধরনের দুর্বলতা বা ভালোবাসা কাজ করে, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চরম মানসিক দীনতা ও দেউলিয়াপাতাকেই নির্দেশ করে।
আইনগত ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আদর্শিক বা মানসিক অবস্থান যদি কেবল তাত্ত্বিক বিরোধিতার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যায়ে উপনীত হয়, তবে কেবল সামাজিক বয়কটই যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সরকার আইনগত বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পিছপা হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বাতিলের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ দেশের দু-এক স্থানে কনসার্ট এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি বাতিল বা স্থগিত হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান যে, এসব সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সার্বিক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নেওয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে না পারে, সে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন গুরুত্বের সাথে দেখছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের আলোচনা চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ