আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিানি ভূখণ্ডের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জেরে জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে সাবেক লেবার পার্টি নেতাসহ বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’র ঘোষণা দিয়েছেন যে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন বিষয় দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ প্রদানে দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ সম্পৃক্ততা বাতিল এবং ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন গাজা সমন্বয় মিশন থেকে যুক্তরাজ্যকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন, জারা সুলতানা, ডায়ান অ্যাবট, নাজ শাহসহ প্রায় ১২ জন ব্রিটিশ এমপির ওপর ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফ্রান্স ও কানাডাসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান টিকিয়ে রাখতে এবং বসতি সম্প্রসারণ রোধে ভূমিকা রাখবে। এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের সমালোচনা করে একে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ এবং নৈতিকভাবে বিকৃত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কূটনৈতিক এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ব্রিটিশ এমপিদের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে একে একটি গুরুতর ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একাংশ ব্রিটিশ নীতির সমালোচনা করলেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে যে তারা পশ্চিম তীরের স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো একপক্ষীয় পদক্ষেপের বিরোধিতা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরের দখলীকৃত ভূমি এবং অবৈধ বসতি স্থাপন নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের নীতিগত অবস্থান দিন দিন আরও কঠোর হওয়ার কারণে উভয় দেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক দূরত্ব আগামী দিনে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফিলিস্তিন সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজার প্রক্রিয়ায় এই ঘটনা নতুন কূটনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি করেছে।


